ইরানের হাত ছাড়বে না রাশিয়া, দিল নতুন বার্তা

ইরানের হাত ছাড়বে না রাশিয়া, দিল নতুন বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলা এবং চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে নিজেদের পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংস্থাটির প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে ইরানে তাদের চলমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা হবে না। রাশিয়ার এই অবস্থানকে যুদ্ধের ময়দানে তেহরানের প্রতি মস্কোর পরোক্ষ এক বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোসাটম বর্তমানে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট (২ ও ৩ নম্বর ইউনিট) নির্মাণের কাজ তদারকি করছে। এর আগে বুশেহরে ইরানের একমাত্র সচল ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক ইউনিটটি রুশ প্রযুক্তিতেই নির্মিত হয়েছিল।

লিখাচেভ বলেন, বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণ রোসাটমের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এখন ইরান ছেড়ে যাওয়ার সময় নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা মূলত একটি বৈশ্বিক পরিস্থিতিরই অংশ মাত্র।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পর নিরাপত্তা বিবেচনায় বুশেহর প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে ধীর করা হয়েছিল।

রোসাটম প্রধান জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে চলতি সপ্তাহে প্রায় ১৫০ জন কর্মীকে আকাশপথ বন্ধ থাকায় স্থলপথে আর্মেনিয়া হয়ে রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প এলাকায় এখনো প্রায় ৪৫০ জন বিশেষজ্ঞ কর্মী অবস্থান করছেন, যারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি দিকগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।

অ্যালেক্সেই লিখাচেভ আরও বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর কোনো ধরনের সরাসরি হামলা হলে তা চেরনোবিল স্টাইলের এক আঞ্চলিক পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কেন্দ্রটিতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর তেজস্ক্রিয়তা কেবল ইরান নয়, বরং পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ করা হয়েছে যাতে বেসামরিক এই পারমাণবিক স্থাপনাটিকে যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখা হয়।

মূলত রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইরানে মোট আটটি পারমাণবিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বুশেহরের পর ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও চারটি ইউনিট নির্মাণের জন্য একটি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তিও সম্পাদিত হয়েছে।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2023 tulshigonga24.com privacy-policy Contact Us About Us
Design BY NewsTheme